রাজ্য – রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশাসনিক গতি বাড়াতে বড় সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে নতুন সরকার। সূত্রের খবর, শিক্ষা দপ্তরকে ফের দু’ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ বিদ্যালয় শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা—এই দুই ক্ষেত্রের জন্য থাকবেন পৃথক পূর্ণমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পর আবার বাম আমলের পুরনো প্রশাসনিক কাঠামোয় ফিরতে চলেছে রাজ্য।
রাজ্যে বামফ্রন্ট আমলে বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা ছিল আলাদা দপ্তর। দুই ক্ষেত্রের দায়িত্ব সামলাতেন পৃথক মন্ত্রীরা। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক প্রাথমিক ও স্কুল শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন Kanti Biswas। পরে ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব সামলান Partha De। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন Satyasadhan Chakraborty এবং Sudarshan Raychaudhuri।
২০১১ সালে All India Trinamool Congress সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে দুটি দপ্তর আলাদা থাকলেও পরে সেগুলিকে একত্রিত করে শুধুমাত্র ‘শিক্ষা দপ্তর’ করা হয়। প্রথমে স্কুল শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন Rabindranath Bhattacharya এবং উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব পান Bratya Basu। পরে একীভূত শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব সামলান Partha Chatterjee এবং ব্রাত্য বসু।
এবার সেই কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে চাইছে নতুন সরকার। সূত্রের দাবি, বিদ্যালয় শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার কাজের চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতেই পৃথক পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দুই ক্ষেত্রেই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কাজের গতি বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এদিকে খুব শীঘ্রই Suvendu Adhikari সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে চলেছে বলেও খবর। নতুন মন্ত্রীদের তালিকা কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই তা রাজভবনে পাঠানো হতে পারে। যদিও মন্ত্রিসভার আকার খুব বড় হবে না, তবুও রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল এবং জাতি-উপজাতির প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
জানা গিয়েছে, যেসব জেলায় বিজেপি নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে, সেই সব এলাকা থেকে একাধিক বিধায়ককে পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতে পারে। পূর্ণমন্ত্রীর পাশাপাশি একাধিক প্রতিমন্ত্রীর নামও চূড়ান্ত হয়েছে বলে খবর। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার সময় ব্রিগেডের মঞ্চে একসঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন Dilip Ghosh, Agnimitra Paul, Nisith Pramanik, Ashok Kirtania এবং Khudiram Tudu।
সরকারি কাজের চাপ কমাতে এই মন্ত্রীদের একাংশের দপ্তর পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। তবে স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই থাকবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
মন্ত্রী নির্বাচন করতে গিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কারণ জয়ী বিধায়কদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তাপস রায় এবং নিশীথ প্রামাণিক ছাড়া অধিকাংশেরই আগে মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা নেই।




















