রাজ্য – দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে বিজেপি। চলতি মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মণ্ডল স্তরে শুরু হবে এই রাজনৈতিক পাঠশালা। দলের দাবি, আদর্শ, সংগঠন পরিচালনা, জনসংযোগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কর্মী ও নেতাদের আরও দক্ষ করে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
এই কর্মসূচির সূচনা উপলক্ষে রবিবার কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান’। সেখানে রাজ্যের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিটি থেকে জেলা সভাপতি-সহ ছয়জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্যস্তরের পদাধিকারীরা। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রায় এক হাজার মণ্ডল রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডলে জেলা ও রাজ্যস্তরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পদাধিকারীরা কর্মীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শিক্ষা দেবেন। রাজ্য, বিভাগ, জেলা এবং মণ্ডল—এই ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। জুলাই মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় আদর্শ, ইতিহাস এবং সংগঠনের মূল দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সাধারণ কর্মীদের কাছে দলের চিন্তাধারা এবং নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরাই এর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি সংগঠন সম্প্রসারণ, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশলও শেখানো হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বিজেপির আদর্শগত ভিত্তির উপর। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘সবার আগে রাষ্ট্র, তারপর দল এবং সবশেষে ব্যক্তি’—এই নীতিই বিজেপির মূল দর্শন। সেই ভাবধারাকে সামনে রেখেই কর্মীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শিক্ষা দেওয়া হবে।
দলের ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বের জীবন ও আদর্শও এই পাঠ্যসূচির অংশ থাকবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো নেতাদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁদের রাজনৈতিক দর্শন এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরে কর্মীদের অনুপ্রাণিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজেপির দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে জনসংযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।




















