রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গের আবগারি নীতি এবং মদ ব্যবসা থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রণীত আবগারি নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিরোধী শিবির একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ বেআইনিভাবে আদায় করা হয়েছে। এই অভিযোগের তির তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেও ছোড়া হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। জানা গিয়েছে, মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্প্রতি রাজ্যের আবগারি কমিশনারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা একটি আর্থিক ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। সংস্থার দাবি, আবগারি নীতির পরিবর্তনের পর ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল এবং সেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে আবগারি নীতিতে পরিবর্তনের ফলে রাজস্ব সংগ্রহের পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। আগে যেখানে মূলত ডিস্ট্রিবিউটর স্তর থেকে রাজস্ব আদায় করা হতো, সেখানে পরবর্তীকালে পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও সেই ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ছিল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিরোধীদের দাবি, নীতিগত এই পরিবর্তনের ফলে মদ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই অর্থের ব্যবহার ও গন্তব্য নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে এই বিষয়টির সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ইতিমধ্যেই সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং ভবিষ্যতে কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয় কি না, তার উপরই নির্ভর করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি। আপাতত আবগারি নীতি এবং মদ ব্যবসাকে ঘিরে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।




















