রাজ্য – জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান। সূত্রের দাবি, দলের কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদ এনডিএ-র প্রতি সমর্থন জানাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকসভার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একদল সাংসদ লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। ওই চিঠিতে সংসদে এনডিএ সদস্যদের পাশে বসার অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
একসময় এনডিএ জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সেই জোট থেকে বেরিয়ে এসে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর দলের একাংশ সাংসদকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা সেই ইতিহাসকেই আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
লোকসভার বর্তমান সংখ্যাতত্ত্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও শরিক দলগুলির সমর্থনে এনডিএ সরকার গঠন করে। বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে তেলুগু দেশম পার্টি, জনতা দল (ইউনাইটেড), শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী), লোক জনশক্তি পার্টি, জনসেনা, জেডিএস, আরএলডি-সহ একাধিক শরিক দল রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ এনডিএ-ঘনিষ্ঠ অবস্থান নেন, তাহলে লোকসভায় জোটের শক্তি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানোর জন্য যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে এখনও যথেষ্ট পথ বাকি থাকবে।
বর্তমানে এনডিএ-র শক্তি প্রায় ২৯২ আসনের আশেপাশে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের হিসাব। এর সঙ্গে আরও ২০ জন সাংসদের সমর্থন যোগ হলে সংখ্যাটি ৩০০-এর গণ্ডি অতিক্রম করতে পারে। যদিও তা সত্ত্বেও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল এবং বিরোধী শিবিরের সাংসদদের অবস্থানও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরমহলে এখন নজর রয়েছে বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য জোট সমীকরণের দিকে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ অবস্থান, লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব—সবকিছু নিয়েই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।



















