দেশ – দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্যের ছ’মাসের মধ্যেই এল আরও এক বড় স্বীকৃতি। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর এবার সম্মানিত হলেন দেশের অন্যতম অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে। সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেন তিনি।
দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের অনুষ্ঠানে এদিন মোট ৬৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিভিন্ন পদ্ম সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন হরমনপ্রীত। ক্রিম রঙের মার্জিত পোশাকে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ও সুরম্য উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে উপস্থিত অতিথিদের।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেই হরমনপ্রীতের পদ্মশ্রী প্রাপ্তির ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল সেই সম্মান। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম মুখ তিনি। দেশের হয়ে একাধিক বিশ্বকাপ খেলেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। তবে গত বছরের বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর নেতৃত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল।
বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স এবং গোটা টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর কেড়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই জাতীয় সম্মান দেওয়া হয়েছে হরমনপ্রীতকে।
এ বছরের পদ্ম পুরস্কারের তালিকায় মোট ১৩১ জনের নাম অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী। সোমবার প্রথম পর্বে রাষ্ট্রপতি ২টি পদ্মবিভূষণ, ৬টি পদ্মভূষণ এবং ৫৮টি পদ্মশ্রী প্রদান করেন। বাকি পুরস্কারগুলি দেওয়া হবে দ্বিতীয় পর্বে।
ক্রীড়াজগত থেকেও এ বছর একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পদ্ম সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। প্রাক্তন টেনিস তারকা বিজয় অমৃতরাজ পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এছাড়াও রোহিত শর্মা, সাভিতা পুনিয়া, প্রবীণ কুমার, বলদেব সিং, ভাগবানদাস রাইকওয়ার এবং কে পজনিভেলের হাতে উঠেছে পদ্মশ্রী সম্মান।
তবে এদিনের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি আলো ছিল হরমনপ্রীতের উপরেই। জাতীয় সম্মান গ্রহণের পর খুব দ্রুতই আবার মাঠে ফিরতে হবে তাঁকে। সামনে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ইতিমধ্যেই ভারতকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে সেই প্রতিযোগিতায়।
রাষ্ট্রপতি ভবনের মঞ্চ থেকে আবার ক্রিকেটের ড্রেসিংরুমে ফিরবেন হরমনপ্রীত কৌর। বিশ্বকাপ জয়ের পর জাতীয় সম্মান— এবার লক্ষ্য আরও একবার দেশের জন্য ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়া।




















