কলকাতা – নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তল্লাশির সময় পুকুরে মোবাইল ফেলে দেওয়ার ঘটনায় একসময় চর্চায় এসেছিলেন বড়ঞার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এবার কি সেই পথেই হাঁটলেন কলকাতা পুলিশের অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস? জমি দখল মামলায় গ্রেফতার হওয়া এই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে উঠছে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন গায়েব করার অভিযোগ।
ইডি সূত্রে খবর, গত ১৫ মে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার সময় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের কাছে তাঁর ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল ফোনের একটিও ছিল না। ফলে গ্রেফতারির পরও তাঁর কাছ থেকে কোনও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করতে পারেননি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফোনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শান্তনুর দাবি, তাঁর ফোন দু’টি নাকি হারিয়ে গিয়েছে। তবে তদন্তকারীরা এই ব্যাখ্যায় একেবারেই সন্তুষ্ট নন। ইডির মতে, বর্তমান সময়ে কোনও অপরাধ তদন্তে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলির মধ্যে অন্যতম। কারণ, ফোনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে কথোপকথন, নথি, লোকেশন এবং আর্থিক লেনদেনের মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
তদন্তে উঠে এসেছে, জমি দখল মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জয় ওরফে জয়েশ কামদারের ফোন থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ঘেঁটে সোনা পাপ্পু এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে জোর করে জমি দখল নিয়ে কথাবার্তার প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি শান্তনুর ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর রাহুল আমিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শান্তনুর ফোন এখনও অধরা।
গোয়েন্দাদের অনুমান, ফার্ন রোডের বাড়িতে ইডির হানার পর থেকেই আত্মগোপন করেছিলেন শান্তনু। গত ৯ মে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে ১৫ মে ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়া পর্যন্ত তিনি প্রায় এক সপ্তাহ সময় পেয়েছিলেন নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। তদন্তকারীদের ধারণা, পেশাদার পুলিশ অফিসার হিসেবে তিনি ভালভাবেই জানতেন তাঁর ফোনে এমন বহু তথ্য রয়েছে যা শুধু এই মামলাই নয়, আরও বড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস করতে পারে।
ইডির মতে, শুধু ডেটা ডিলিট করলেও আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির সাহায্যে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব ছিল। তাই তথ্যপ্রমাণ পুরোপুরি মুছে ফেলতেই ফোন দু’টি সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের।
তবে তদন্তে থামছে না ইডি। জেরার সময় শান্তনুকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ফোন হারানোর পর তিনি থানায় কোনও জিডি বা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কি না। সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্বীকার করেন, কোনও অভিযোগ তিনি জানাননি।
অভিযুক্তের ফোন না মিললেও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শেষ কোথায় ফোনগুলি সক্রিয় ছিল, সেই তথ্য ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে ইডি। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে এখন ফোন দু’টির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।




















