রাজ্য – রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBCSSC) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব ও বরিষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে। সরকারের দাবি, এই নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে।
রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, কোনও নিয়োগ কমিশনের শীর্ষপদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না এবং ইউপিএসসি-র ধাঁচে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। অযোগ্য বা অসদুপায়ে চাকরি পাওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান সরকারের কাছে চাকরি পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হবে মেধা ও যোগ্যতা। অতীতের দুর্নীতি এবং অনিয়মের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, রাজ্যবাসীর কাছে সরকারের অঙ্গীকার ছিল নিয়োগ কমিশনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে ইউপিএসসি-র আদলে পুনর্গঠন করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করার সময়ও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে কোনও নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বরিষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন নিশ্চিত হবে বলে সরকারের আশা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার তিনি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন।




















