উত্তর চব্বিশ পরগনা – উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া পুরসভায় শুরু হয়েছে বড়সড় রাজনৈতিক ভাঙন। ইতিমধ্যেই ২১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১১ জন একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন। বাকি রয়েছেন আরও ১০ জন কাউন্সিলর। পুরপ্রধান রমেন দাস জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে আরও ৮ জন ইস্তফা দেবেন। এমনকি তিনি নিজেও পদত্যাগ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
গারুলিয়া পুরসভায় মোট ২১টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে একজন ফরওয়ার্ড ব্লক এবং একজন নির্দল কাউন্সিলর রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক এই গণইস্তফাকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়েছে এলাকায়।
এই প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক Arjun Singh মন্তব্য করেন, যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
এদিকে গারুলিয়ার পর এবার ভাটপাড়া পুরসভাতেও বড়সড় ধাক্কা। সূত্রের খবর, ভাটপাড়া পুরসভার ২৯ জন কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি পুরসভার চেয়ারম্যান রেবা রাহাও ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে কাউন্সিলররা তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এই গণপদত্যাগের জেরে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভাটপাড়া পুরসভার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে অর্জুন সিং জানান, সংকটজনক পরিস্থিতিতেও যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবায় কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণে সরকারি আধিকারিকরা কাজ চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি বিধায়ক পবন সিং এবং ডক্টর রাজেশ কুমার এলাকার পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব দেখবেন বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে ভাটপাড়া পুরসভার প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষ দাবি করেছেন, ভাটপাড়া ও জগদ্দল বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল পুরসভার নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতা। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় একাধিক পুকুর ভরাট, নেতৃত্বের ঔদ্ধত্য ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রভাব ভোটের ফলাফলেও পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিধানসভার ফল ঘোষণার পর থেকেই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পুরপরিষেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি কাঁচরাপাড়া পুরসভায় ১৫ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফা এবং হালিশহর পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগ ঘিরেও ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভাটপাড়া ও গারুলিয়া পুরসভা। একের পর এক পুরসভায় এই ভাঙনের ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।



















