কলকাতা – দেশজুড়ে আবারও বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সোমবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন মূল্য। লিটার প্রতি আড়াই টাকারও বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কলকাতায় পেট্রলের দাম ২ টাকা ৮৭ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা। একই সঙ্গে ডিজেলের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
তেল সংস্থাগুলির দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ক্রমশ জটিল আকার নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে চতুর্থবারের মতো জ্বালানির দাম বাড়ানো হল।
রাজধানী দিল্লিতেও পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা ৬১ পয়সা বেড়েছে। ফলে দাম বেড়ে হয়েছে ১০২ টাকা ১২ পয়সা। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ২ টাকা ৭১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সায়। এর আগে শনিবারও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রায় ১ টাকা করে দাম বাড়িয়েছিল। গত ১৫ মে প্রথম দফার বৃদ্ধির পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি চতুর্থ দফা মূল্যবৃদ্ধি।
মুম্বইতেও পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেখানে নতুন দাম হয়েছে ১১১ টাকা ২১ পয়সা। চেন্নাইয়ে পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ টাকা ৭৭ পয়সায়। বিভিন্ন মহানগরেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচে।
সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় এখনও দেশে পেট্রল প্রায় ১৩ টাকা এবং ডিজেল প্রায় ৩৮ টাকা কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। সেই কারণে ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার ভর্তুকি দেয় কিনা, সেদিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষের। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলি জ্বালানির উপর কর কমালে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে দেশের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জ্বালানির খরচ কমাতে তিনি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর উপর জোর দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানোর আবেদন জানিয়েছেন।




















