পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে, জ্বালানি-সার নিয়ে সতর্ক কেন্দ্র

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে, জ্বালানি-সার নিয়ে সতর্ক কেন্দ্র

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থনীতিতেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই জ্বালানি, সার এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র সরকার এবং বিশেষভাবে এই তিনটি ক্ষেত্রকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সোমবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এখন দেশের অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, সারের দাম এমন জায়গায় পৌঁছেছে যা আগে কল্পনাও করা যেত না। পাশাপাশি সোনার দামও ক্রমাগত বাড়ছে, যার ফলে বৈদেশিক বাণিজ্য ও আমদানি খরচের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
নির্মলা সীতারামন জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে সম্প্রতি পেট্রল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবুও মানুষের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তবে দেশের অর্থনীতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর বার্তাও দেন তিনি। কারও নাম না করেই নির্মলা বলেন, দেশের ইতিবাচক দিকগুলিকে আড়াল করে এক ধরনের হতাশা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা।
এদিন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির বকেয়া পাওনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রায় ৮ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আটকে রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলির পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে। কারণ, এই বকেয়া টাকার জন্য বহু ছোট ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সমস্যার মুখে পড়ছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে কেন্দ্র যে উদ্বিগ্ন, তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত সোনা কেনা বা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ভারতের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই পথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং ইউরিয়া ভারতে আসে। ফলে সরবরাহে সমস্যা হলে জ্বালানি ও সারের বাজারে আরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই জ্বালানির বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত দু’সপ্তাহে একাধিকবার বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতি লিটারে পেট্রলের দাম ২ টাকা ৬১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ২ টাকা ৭১ পয়সা বাড়িয়েছে। ১৫ মে থেকে এখনও পর্যন্ত পেট্রলের দাম প্রায় ৭ টাকা ৩৫ পয়সা এবং ডিজেলের দাম প্রায় ৭ টাকা ৫৩ পয়সা বেড়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই এখন পরিস্থিতির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখছে কেন্দ্র সরকার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top