রাজ্য – আরজি কর কাণ্ডের ক্ষত এখনও তাজা বাংলার মানুষের মনে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই ঘটনার তদন্ত ও সুবিচারের দাবিতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। আর সেই আবহেই সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।
সম্প্রতি আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, তদন্তে গাফিলতি এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দেওয়ার অভিযোগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার। সেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরই এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সোমবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রত্না দেবনাথ। তিনি লেখেন, “আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী।” একইসঙ্গে মেয়ের জন্য সুবিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “সততার শক্তি অনেক। শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়।”
পোস্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষও করেন রত্না দেবনাথ। তিনি লেখেন, “আজ আমি এবং মমতা দুজনেই সর্বহারা। আমি একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি, মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিজ্ঞায় ব্রতী হয়েছি। আর উনি ওনার চোদ্দ তলার গদি হারিয়েছেন।” পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে আরও বড় পদক্ষেপ দেখা যাবে। আবেগঘন ভাষায় তিনি নিজেকে পরিচয় দেন “ডাঃ দেবনাথের গর্বিত মা” হিসেবে।
নবান্নে এদিনের সাক্ষাৎ ছিল অত্যন্ত আবেগঘন বলেই জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে আরজি কর কাণ্ডে কোনও আপস করা হবে না। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বিনীত গোয়েল, অভিষেক গুপ্তা এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সুবিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসা নির্যাতিতার পরিবার মনে করছে, নতুন সরকারের পদক্ষেপ তাঁদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। নবান্ন থেকে বেরিয়ে রত্না দেবনাথ জানান, শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ফলে তাঁরা প্রথমবার মনে করছেন সত্যিই বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রত্না দেবনাথের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করা এবং পানিহাটি থেকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় পৌঁছনোর পিছনেও ছিল মেয়ের জন্য সুবিচারের আন্দোলন। আর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক সেই লড়াইকে আরও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।




















