রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল জনগণনা ২০২৭-এর প্রশাসনিক প্রস্তুতি। রাজ্যপালের অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার বাংলাতেও শুরু হচ্ছে জনগণনার প্রস্তুতি, আর এই প্রথমবার পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল তথ্য নথিভুক্তির ব্যবস্থা।
কোভিড পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে আগের জনগণনা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণে এবারের জনগণনায় একাধিক নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে এটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জনগণনার কাজ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM), মহকুমা শাসক (SDO), বিডিও-সহ একাধিক আধিকারিক নিজ নিজ এলাকায় জনগণনার কাজ পরিচালনা এবং তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে অতিরিক্ত আধিকারিক নিয়োগের ক্ষমতাও তাঁদের হাতে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর, জনগণনার কাজে বাধা সৃষ্টি করা বা নির্ধারিত দায়িত্বে গাফিলতি করলে জনগণনা আইন, ১৯৪৮ অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
২০২৭ সালের জনগণনা দুই ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। এবারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, সাধারণ নাগরিকরাও নিজেরাই ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন।
Self Enumeration পদ্ধতিতে পরিবারের সদস্যদের তথ্যের পাশাপাশি বাড়ি, সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে জমা দিতে হবে। এরপর জনগণনা আধিকারিকরা সরাসরি বাড়িতে গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে আবেদনপত্র লক হয়ে যাবে এবং তারপর আর কোনও তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে আগের চক্রে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং বড় বাজেট নিয়ে শুরু হতে চলেছে এই বৃহৎ প্রকল্প। কেন্দ্রের তরফে এই জনগণনা প্রকল্পের জন্য প্রায় ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে দেশের নাগরিক তথ্যভান্ডার তৈরি, প্রশাসনিক পরিকল্পনা এবং সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণনা ২০২৭ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




















