রাজ্য – রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেটে গিয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ। শাসক দল থেকে এখন প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় তৃণমূল কংগ্রেস। বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে তৃণমূল পরিষদীয় দল। কিন্তু এতদিন পরেও সরকারি স্বীকৃতি না মেলায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার পদ, ঘর বা আনুষ্ঠানিক মর্যাদা পাননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে কয়েকদিন আগেই তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন তিনি। জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন এখনও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
তৃণমূলের দাবি, ৮০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ যে চিঠি জমা পড়েছে, তাতে সই রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই কারণেই আপত্তি তুলেছে সচিবালয়।
বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দল সংক্রান্ত কোনও দাবি বা প্রস্তাব জানানোর অধিকার শুধুমাত্র দলের বিধায়কদেরই রয়েছে। সেই নিয়মের ব্যাখ্যা ঘিরেই তৈরি হয়েছে বর্তমান জটিলতা।
এই অবস্থায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিধানসভা অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিধানসভার সচিব কীভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এমন অবস্থান জানাতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদীয় গণতন্ত্রে এমন নজির আগে কখনও দেখা যায়নি। একইসঙ্গে তিনি শাসক দলকে মনে করিয়ে দেন, অধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবেই সৌজন্য অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাহলে এখন কেন সেই স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তা নিয়েই কটাক্ষ করেন তিনি।
নিজেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিরোধী এবং শাসক— দুই ভূমিকাতেই বহু বছর কাটালেও সংসদীয় রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে কখনও হননি।
সোমবার বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, আজ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন স্পিকার তথা বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




















