কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ, দায়িত্বে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে

কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ, দায়িত্বে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। সোমবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এর আগে বিধাননগর পুরসভাতেও বোর্ড ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। সেখানে মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একইভাবে সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর থেকেই পুর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।

রাজ্য সরকারের মতে, বর্ষার আগে কলকাতা শহরের নাগরিক পরিষেবা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বৃষ্টির সময় শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থা, জঞ্জাল অপসারণ, রাস্তা সংস্কার এবং জরুরি পরিষেবা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়মিত চালিয়ে যেতে প্রশাসনিক নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই পুরসভাকে কোনও অবস্থাতেই প্রশাসনিকভাবে অচল রাখতে চায়নি সরকার।

তবে পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলেও আপাতত বিভিন্ন শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষমতা কাউন্সিলরদের হাতেই থাকছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলেই প্রশাসনের দাবি।

ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নবান্নের তরফে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশও পাঠানো হয়। সোমবার সেই সময়সীমার শেষ দিন ছিল।

এদিকে নতুন মেয়র নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। সূত্রের খবর, মালা রায় পরবর্তী মেয়র নির্বাচনের দাবিতে সমর্থন আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রস্তাবে মাত্র ৩২ জন কাউন্সিলর সই করায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে শহরের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নাগরিক পরিষেবা অব্যাহত রাখতে কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আগামী দিনে পুর প্রশাসনের কাঠামো এবং নেতৃত্ব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top